২০২১ ইংরেজিকে বিদায় ও নববর্ষকে স্বাগত জানাতে কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড়
২০২১ ইংরেজিকে বিদায় এবং ২০২২ নববর্ষকে স্বাগত জানাতে কক্সবাজারে ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকরা। তাদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ।
৩১ ডিসেম্ভর সকাল থেকেই পর্যটন নগরীতে হরেকরকম যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেট গাড়িতে এবং বিমানে পৌঁছেন ভ্রমণপিপাসু দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। বেশিরভাগ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গিয়েছিল অনেক আগে থেকেই।
তবে সম্প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ৭ দফা বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি সৈকত এলাকা ও হোটেল-মোটেল জোনে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। মাঠে থাকছে ২০৮ জন পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন স্পটে বাড়ানো হয়েছে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় নানা কারনেই এ বছর তুলনামূলক পর্যটকের আগমন কম হয়েছে বলে দাবি পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।
থার্টিফার্স্ট নাইটে সৈকতের বালিয়াড়ি বা উন্মুক্ত কোনো স্থানে হচ্ছে না কোনো অনুষ্ঠান। তবে তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইজ, সায়মন বীচ রিসোর্ট, কক্স-টু-ডে এবং সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইনডোর প্রোগ্রামের আয়োজনের প্রস্তুতি ছিল অনেক আগে থেকেই। যে কারনে তা বাস্তবায়নও হচ্ছে। হোটেলের অতিথি, বিদেশি পর্যটক এবং বিশেষ মেহমান ব্যতিত এসব অনুষ্ঠানে অন্যদের শরীক হবার তেমন সুযোগ নেই বলে জানালেন আয়োজকরা।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও দেশের উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে উন্মুক্ত কোনো আয়োজন না থাকায় এবারো থার্টিফার্স্ট নাইট বা নতুন বর্ষ বরণকে ‘প্রাণহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন এক পর্যটক দম্পত্তি।
তারকা হোটেল কক্সবাজার সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’র সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক (এজিএম) নাভিদ আহসান চৌধুরী বলেন, থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে দু’রাত-তিন দিনের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছি আমরা। বৃহস্পতিবার-শুক্রবার হোটেলে অবস্থানরতদের জন্য ডিজে একেএসর ডিজে এবং মাইলসের শাফিন গানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। যেহেতু ইনহাউজ প্রোগ্রাম, তাই নিরাপত্তার খাতিরে শুক্রবার বাইরের কোনো গেস্ট প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে।
কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার অভিযোগ এলে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে কোনো আতশবাজি, পটকা ফুটানো বা কোনো উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান করা যাবে না। পাশাপাশি রাত ১২টার পর উচ্চস্বরে কোনো মাইক কিংবা সাউন্ড বাজানো নিষেধ। থার্টি ফার্স্ট নাইট ও বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। একইভাবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




