ছাফা মোতালেব কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল সনদে এক শিক্ষিকার চাকুরী

চট্টগ্রাম নগরীর হাটহাজারী উপজেলা দক্ষিণ বুড়িশ্বর ছাফা মোতালেব কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা তিনটি নাম ব্যবহার ভুয়া নামে ভুয়া সনদ দিয়ে গত ৭ বছর ধরে চাকুরী করলেও জাতীয় পরিচয় পত্র পর্যন্ত জমা দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় শিক্ষা অফিস তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে জানান।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর পাশে দক্ষিণ বুড়িচর ছাফা মোতাবেলৰ কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৫ সালে খন্ডকালিন (বিজ্ঞান) শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান আঞ্জুমান আরা বেগম নামের এক শিক্ষিকা। তৎকালিন স্কুল কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের ভুয়া কাগজ পত্র দিয়ে নিয়োগ পান উক্ত শিক্ষক। যথা নিয়মে গত ৭ বছর ধরে স্কুল কর্তৃপক্ষ বেতন ভাতাও উত্তোলন করে আসছে। সম্প্রতি সারা দেশের প্রত্যেক স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের বায়োডাটা এবং সর্বশেষ সনদের ফটোকপি জনা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন শিক্ষা অধিদপ্তর। যথা নিয়মে সব শিক্ষক কর্মচারীর বায়োডাটা জমা দিলেও আঞ্জুমান আরা বেগম হঠাৎ নাম পরিবর্তন করে হামিদা খাতুন চৌধুরী কাগজ পত্র জমা দিয়ে এতে সন্দেহ হয়। সে চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০১৩ সালে এইচএসসি পাশের সনদ দিলেও এতে আঞ্জুমান আরা মুনা লেখা রয়েছে যার রেজিঃ নং ৩২০৬৩৬ শিক্ষাবর্ষ-২০১১-২০১১ ইংরেজী জিপিএ-৫। অন্যদিকে ২০১৩ সালের একই বছর একই স্কুলের এইচএসসি পাশের মার্কসীটে আঞ্জুমানারা বেগম লেখা হলেও রোল নং ৩৭৮০৬৯| জিপিএ-২.৯০ দেখানো হয়েছে। দুটি সনদের মধ্যে পিতা এবং মায়ের নাম উল্লেখ থাকলেও জন্ম তারিখ উল্লেখ নেই। বিষয়টি স্কুল পরিচালনা কমিটির নজরে আসলে স্কুল কমিটির সভাপতি মো. আবু তাহের গত ১৯ সেপ্টম্বর উক্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেন। একই সাথে গত ২০ অক্টোবর হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে স্কুল কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি লিখিতভাবে জানান। অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাটহাজারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত নভেম্বর উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মুসলিম উদ্দীন বিষয়টি তদন্ত কাজের অংশ হিসেবে উক্ত শিক্ষিকাকে গত ৭ নভেম্বর এর মধ্যে সনদ পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি জামা দিতে নির্দেশ দেন। সেই থেকে জাল সনদের অভিযোগে অব্যহতি দেয়ায় স্কুল কমিটির সভাপতি আবু তাহের এবং প্রধান শিক্ষক আলী আজম খানকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখান বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্কুল কমিটির অব্যাহতি পাওয়ার পর আঞ্জুমান আরা প্রকাশ হামিদা আকতার চৌধুরানীর নামে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও স্কুল কমিটির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নুরুচ্ছাফার কাজ থেকে দিন তারিখ বিহীন একটি কাগজ নিয়ে জোর পূর্বক স্কুলে থেকে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্কুলের মধ্যে বড় ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছে উক্ত শিক্ষিকা বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী ভাড়া করে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে বিভিন্নভাবে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন বলেও কয়েকজন শিক্ষকেরও অভিযোগ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক চাকুরীতে যোগদানের পর থেকে কোন কাগজ পত্র জমা দেয়নি বলে দাবি করেন, বায়েজিদ এস এম নাছির উদ্দীন সিটি কর্পোরেশন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশ করছে বলে দাবি করলেও পরে ফেল করেছে বলে স্বীকার করেন, আঞ্জুমান আরা পরিচয়ে চাকুরী করে আসলেও তার আসল নাম হামিদা আকতার চৌধুরানী বলে জানান, স্কুলে কোন কাগজ পত্র দেয়নি বলেও স্বীকার করেন, প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় স্কুলে চাকুরী পেয়েছে বলে দাবি করেন। বিভিন্ন নামের সাথে সনদ এবং জাতীয় পরিচয় পরে অমিল থাকা থাকার বিষয়ে কোন উত্তর দেয়নি। প্রধান শিক্ষক এবং সভাপতি অব্যাহতি দিলে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ছাফা সাহেব চাকুরী করার জন্য লিখিত পত্র দিয়েছে বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে জানার জন্য ছাফা মোতালেব কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আজম খান বলেন, আমাদের স্কুল যখন ২০১৫ সালের দিকে এমপিওভুক হয়নি তখন স্কুলে শিক্ষক সংকট ছিল, সংকট দূর করতে আমরা প্রতিষ্ঠাতা মহোদয়সহ বিভিন্ন জনের সুপারিশে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি, সম্প্রতি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রত্যেক স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যসহ বায়োডাটা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়। অধিকাংশ শিক্ষক জমা দিলেও আঞ্জুমান আরা জমা দেয়নি পরে হামিদা আকতার চৌধুরী কাগজ পত্র দিলে সন্দহ হয়। বিষয়টি সভাপতির পরামর্শ করলে উক্ত শিক্ষিকা
আমারএবং সভাপতি মহোদয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার পরে স্কুল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বিষয়টি শিক্ষা অফিস থেকে তদন্ত করা হচ্ছে এখন। এ বিষয়ে ছাফা মোতালেব কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু তাহের বলেন, যে শিক্ষক স্কুলে কোন সনদ পত্র জমা না দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র পর্যন্ত জমা দেয়নি, ৭ বছর ধরে কিসের ভিত্তিতে চাকুরী করে আসছে। এটা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আজ দেব কাল দেব বলে ৭ বছর পার করেছে বিষয়টি নিয়ে সন্দহ হলে জাল সনদের বিষয়টি ধরা পড়ে, স্কুল কমিটির সভায় সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক উক্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কপি পাঠানো হয়েছে। বক্তব্য জানার উক্ত স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব নুরুচ্ছাফা দেশের বাইরে অবস্থান করার কারণে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।